• বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

নির্বাচনপন্থি বামেরা কতটা বাম বা সমাজতান্ত্রিক

নির্বাচনপন্থি বামেরা কতটা বাম বা সমাজতান্ত্রিক

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলো। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্রে রেখে বামপন্থিদের একাংশ “গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট” নামে একটি নির্বাচনি জোট গঠন করেছে। এই জোটে আছে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাসদ আম্বিয়া গ্রুপ, পঙ্কজ ন্যাপসহ আরো কিছু ছোট দল। এদেরকেই বুর্জোয়া মিডিয়া বলছে বামপন্থিদের জোট। এদের কর্মসূচি কী বা এরা বিজয় অর্জন করলে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে কী কী অগ্রগতি ঘটবে সে বিষয়ে বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে বাম বা বামপন্থিদের সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশে সাধারণভাবে যারা বা যে দলগুলো সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে তাদেরকে বামপিন্থি বলা হয়।

 সমাজতান্ত্রিক মতবাদে বলা হয়েছে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিদ্যমান বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে শ্রমিকশ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ করে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৮৪৮ সালে কমিউনিস্ট ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে। সেই থেকে ১৭৬ বছর ধরে দেশে দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নেতা হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণি এবং তার নিকটতম বন্ধু হচ্ছে কৃষক শ্রেণি এবং সকল ধরনের নিপীড়িত শ্রেণি-পেশার জনগণ। সমাজতন্ত্রের শত্রু হচ্ছে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালেরা। বিগত শতকে রাশিয়া-চীনসহ বিশ্বের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ জনগণ সমাজতান্ত্রিক সমাজের আওতায় এসেছিলো। কিন্তু এসব দেশের কমিউনিস্ট পার্টির ভেতর থেকেই উদ্ভূত সমাজতন্ত্রের নামে সমাজতন্ত্র-বিরোধিতা এবং পুঁজিবাদের উত্থানের কারণে বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রেই আর সমাজতন্ত্র নেই। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টির মধ্য থেকেই জন্ম নেয়া সংশোধনবাদও  সমাজতন্ত্রের আলখেল্লা পরা নব্য বুর্জোয়া। এরা সমাজতন্ত্রের মতবাদ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ মুখে মানলেও মতবাদের উচ্চতর বিকাশ মাওবাদকে অস্বীকার করে। তারা শ্রমিকশ্রেণির দৃঢ়তম মিত্র কৃষকের মধ্যে যায় না এবং কৃষিবিপ্লব এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিপ্লবী বলপ্রয়োগের পথ না দেখিয়ে কৌশলগতভাবে নির্বাচনের কথা বলে। সংশোধনবাদী পথে হাটে। এই সকল সংশোধনবাদীদের সাথে প্রকৃত সমাজতন্ত্রীদের অব্যাহত শ্রেণি সংগ্রাম চলছে।  সংশোধনবাদ এখন রং-বেরং বহু ধারায় বিকশিত হয়েছে। যা বর্তমানে আধুনিক সংশোধনবাদ, নয়া সংশোধনবাদ, হোক্সাপন্থা, তেংপন্থা, সোশ্যাল ডেমোক্রাট– প্রভৃতি। যেমন আমাদের দেশে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ, রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি এবং দিলীপ বড়–য়ার সাম্যবাদী দল। এই নয়া সংশোধনবাদীরা সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ চীনের দালাল ছিল। এই বামপন্থি দাবিদাররা ফ্যাসিবাদী হাসিনার দোসর হয়েছিল। নির্বাচনপন্থি সিপিবি-বাসদ মাওসেতুঙের সমাজতান্ত্রিক চীনকে বিরোধিতা করলেও এখনকার ভুয়া সমাজতন্ত্রী ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী চীনকে সমর্থন করে। এদেরকে মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সমর্থক বাম বলা যায়। যারা এমনকি বুর্জোয়া বিপ্লবী গণতন্ত্রকেও ধারণ করে না। এই আলোকে দেখতে হবে আমাদের দেশের আজকের নির্বাচনপন্থি বামেরা কতটা বামপন্থি। এদের লাইন-নীতি-কর্মসূচি সত্যিকার সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবে?  ফ্যাসিবাদী হাসিনা-বিরোধী সংগ্রামে বিভিন্ন ধারার বামপন্থিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাদেরই নির্বাচনপন্থি সংস্কারবাদী অংশ শাসক বড় ধনীদের ক্ষমতা ভাগাভাগির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উল্লেখিত ‘বাম গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করেছে। তারা আপাতদৃষ্টে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলেও সেক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার। এর মূল কারণ হলো, এমনকি সংস্কারবাদী অর্থনীতিবাদী লাইনেও তারা শ্রমিক বা গরিব কৃষকের মাঝে এখন আর তেমন একটা যায় না, কাজও করে না। ফলে তারা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও অস্তিত্বের জন্য বুর্জোয়া দলগুলোর কর্মসূচিকেই কিছুটা বাম রং দেয়ার চেষ্টা চালায়। এমনকি সেরকম হলে তাদের এর বা ওর সাথে জোটও গঠন করে। ইতিমধ্যে বাম দাবিদার আরেক অংশ জনাব সাইফুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘বিপ্লবী’ ওয়ার্কাস পার্টি এবং জনাব জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন ‘গণসংহতি আন্দোলন’ বড় ধনীদের দল বিএনপি’র সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করছে।  এই নির্বাচনপন্থি বামদলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের কাঙ্ক্ষিত সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কী অগ্রগতি ঘটবে? তাদের দাবি মোতাবেক নির্বাচনের ইস্যু কাজে লাগিয়ে জনগণকে বিপ্লবের জন্য কতটা সচেতন করতে পারবে? কোনো ধরনের বিশ্লেষণ ছাড়াই বলা যায়, বড় ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক দল বিএনপি’র লেজুড় বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি এবং গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো ধরনের সহায়তা দুরের কথা, শাসকশ্রেণির কথিত নতুন কোনো বন্দোবস্তও হবে না। মেনন-দিলীপ বড়–য়াদের মতো পরিণতির দিকেই তারা এগোচ্ছে, যদিনা তারা সময় থাকতে সরে পড়ে। বড় ধনীদের বিপরীতে ‘বামপন্থি’দের পৃথক ধারা সৃষ্টির দাবিদার ‘যুক্তফ্রন্ট’ কোনো ধারা সৃষ্টির পরিবর্তে জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের নির্বাচনী মোহ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে মাত্র। 

স্বাভাবিক প্রশ্ন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে এই বামদের জনগণের কাছে যাওয়ার কি কোনো উপায় ছিল না?  সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, দালাল শাসকশ্রেণির সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থাই এমন যাতে শুধুমাত্র সাম্রাজ্যবাদের দালাল, ভারতের চামচা সামরিক-বেসামরিক অবসর প্রাপ্ত আমলা, বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, এনজিও কর্মকর্তা, সুশীল, আইনজীবী, অধ্যাপক তথা বড় ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাই নির্বাচিত হতে পারবে। তাই এই নির্বাচনি ব্যবস্থায় কীভাবে শাসকশ্রেণি তাদের কর্মসূচি চালাচ্ছে, তার বিপরীতে জনগণের স্বার্থের কী কর্মসূচি হতে পারে, নির্বাচনি পদ্ধতিতে কী কী ধরনের গলদ রয়েছে তা উল্লেখ করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনি ব্যবস্থা তুলে ধরা যেতো। শ্রমিক-কৃষক-নিপীড়িত জনগণ যাতে নির্বাচিত হতে পারেন এমন গণতান্ত্রিক রূপরেখা তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জনগণের কাছে যাওয়া যায়। কিন্তু তারা বিপ্লবী সংগ্রামের পথে না গিয়ে বুর্জোয়া নির্বাচনের কানাগলি পথে জনগণকে আটকে রাখছে। বাস্তবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম করতে পারে মালেমা তত্ত্বে সজ্জিত কমিউনিস্ট পার্টি। 

নির্বাচনপন্থি বামেরা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা মুখে বললেও তা বাস্তবায়ন তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাদের মৌলিক রাজনৈতিক-মতাদশগত লাইনের কারণে। আবার এটাও সত্য এই সব বাম সংগঠনে যুক্ত অনেক কর্মী-জনগণ আন্তরিকভাবে সমাজতন্ত্র চান এরা বাম বা সমাজতন্ত্রের সমর্থক কিন্তু কমিউনিস্ট নয়। অন্যভাবে বলা যায়, কমিউনিস্টরা বামপন্থি, কিন্তু সব বামপন্থিই কমিউনিস্ট নয়, বিপ্লবী নয়। নির্বাচনের রাজনীতিতেও তার প্রতিফলন ঘটে। জনগণের মধ্যে এই প্রশ্নে বিভ্রান্তি রয়েছে। সত্যিকার মালেমাবাদী কমিউনিস্টদের এই বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে অব্যাহত সংগ্রাম করে মালেমার বিপ্লবী রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

নির্বাচনপন্থি বামেরা কতটা বাম বা সমাজতান্ত্রিক

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এলো। সেই নির্বাচনকে কেন্দ্রে রেখে বামপন্থিদের একাংশ “গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট” নামে একটি নির্বাচনি জোট গঠন করেছে। এই জোটে আছে সিপিবি-বাসদের নেতৃত্বাধীন পুরোনো বাম গণতান্ত্রিক জোট, জাসদ আম্বিয়া গ্রুপ, পঙ্কজ ন্যাপসহ আরো কিছু ছোট দল। এদেরকেই বুর্জোয়া মিডিয়া বলছে বামপন্থিদের জোট। এদের কর্মসূচি কী বা এরা বিজয় অর্জন করলে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে কী কী অগ্রগতি ঘটবে সে বিষয়ে বিশ্লেষণে যাওয়ার আগে বাম বা বামপন্থিদের সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া প্রয়োজন। আমাদের দেশে সাধারণভাবে যারা বা যে দলগুলো সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার কথা বলে তাদেরকে বামপিন্থি বলা হয়।

 সমাজতান্ত্রিক মতবাদে বলা হয়েছে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে বিদ্যমান বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থা বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে শ্রমিকশ্রেণির একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্য সম্পত্তির ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ করে সামাজিক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করা। এই আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ১৮৪৮ সালে কমিউনিস্ট ইশতেহার ঘোষণার মাধ্যমে। সেই থেকে ১৭৬ বছর ধরে দেশে দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চলছে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নেতা হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণি এবং তার নিকটতম বন্ধু হচ্ছে কৃষক শ্রেণি এবং সকল ধরনের নিপীড়িত শ্রেণি-পেশার জনগণ। সমাজতন্ত্রের শত্রু হচ্ছে পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ এবং তাদের দালালেরা। বিগত শতকে রাশিয়া-চীনসহ বিশ্বের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ জনগণ সমাজতান্ত্রিক সমাজের আওতায় এসেছিলো। কিন্তু এসব দেশের কমিউনিস্ট পার্টির ভেতর থেকেই উদ্ভূত সমাজতন্ত্রের নামে সমাজতন্ত্র-বিরোধিতা এবং পুঁজিবাদের উত্থানের কারণে বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রেই আর সমাজতন্ত্র নেই। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদ, দালাল শাসকশ্রেণি ছাড়াও কমিউনিস্ট পার্টির মধ্য থেকেই জন্ম নেয়া সংশোধনবাদও  সমাজতন্ত্রের আলখেল্লা পরা নব্য বুর্জোয়া। এরা সমাজতন্ত্রের মতবাদ মার্কসবাদ-লেনিনবাদ মুখে মানলেও মতবাদের উচ্চতর বিকাশ মাওবাদকে অস্বীকার করে। তারা শ্রমিকশ্রেণির দৃঢ়তম মিত্র কৃষকের মধ্যে যায় না এবং কৃষিবিপ্লব এবং রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের বিপ্লবী বলপ্রয়োগের পথ না দেখিয়ে কৌশলগতভাবে নির্বাচনের কথা বলে। সংশোধনবাদী পথে হাটে। এই সকল সংশোধনবাদীদের সাথে প্রকৃত সমাজতন্ত্রীদের অব্যাহত শ্রেণি সংগ্রাম চলছে।  সংশোধনবাদ এখন রং-বেরং বহু ধারায় বিকশিত হয়েছে। যা বর্তমানে আধুনিক সংশোধনবাদ, নয়া সংশোধনবাদ, হোক্সাপন্থা, তেংপন্থা, সোশ্যাল ডেমোক্রাট– প্রভৃতি। যেমন আমাদের দেশে হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ, রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি এবং দিলীপ বড়–য়ার সাম্যবাদী দল। এই নয়া সংশোধনবাদীরা সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ চীনের দালাল ছিল। এই বামপন্থি দাবিদাররা ফ্যাসিবাদী হাসিনার দোসর হয়েছিল। নির্বাচনপন্থি সিপিবি-বাসদ মাওসেতুঙের সমাজতান্ত্রিক চীনকে বিরোধিতা করলেও এখনকার ভুয়া সমাজতন্ত্রী ও সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী চীনকে সমর্থন করে। এদেরকে মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া গণতন্ত্রের সমর্থক বাম বলা যায়। যারা এমনকি বুর্জোয়া বিপ্লবী গণতন্ত্রকেও ধারণ করে না। এই আলোকে দেখতে হবে আমাদের দেশের আজকের নির্বাচনপন্থি বামেরা কতটা বামপন্থি। এদের লাইন-নীতি-কর্মসূচি সত্যিকার সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কী ধরনের ভূমিকা রাখতে পারবে?  ফ্যাসিবাদী হাসিনা-বিরোধী সংগ্রামে বিভিন্ন ধারার বামপন্থিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাদেরই নির্বাচনপন্থি সংস্কারবাদী অংশ শাসক বড় ধনীদের ক্ষমতা ভাগাভাগির এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উল্লেখিত ‘বাম গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ গঠন করেছে। তারা আপাতদৃষ্টে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলেও সেক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার। এর মূল কারণ হলো, এমনকি সংস্কারবাদী অর্থনীতিবাদী লাইনেও তারা শ্রমিক বা গরিব কৃষকের মাঝে এখন আর তেমন একটা যায় না, কাজও করে না। ফলে তারা নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা ও অস্তিত্বের জন্য বুর্জোয়া দলগুলোর কর্মসূচিকেই কিছুটা বাম রং দেয়ার চেষ্টা চালায়। এমনকি সেরকম হলে তাদের এর বা ওর সাথে জোটও গঠন করে। ইতিমধ্যে বাম দাবিদার আরেক অংশ জনাব সাইফুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘বিপ্লবী’ ওয়ার্কাস পার্টি এবং জনাব জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বাধীন ‘গণসংহতি আন্দোলন’ বড় ধনীদের দল বিএনপি’র সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করছে।  এই নির্বাচনপন্থি বামদলগুলো নির্বাচনে অংশ নিলে তাদের কাঙ্ক্ষিত সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে কী অগ্রগতি ঘটবে? তাদের দাবি মোতাবেক নির্বাচনের ইস্যু কাজে লাগিয়ে জনগণকে বিপ্লবের জন্য কতটা সচেতন করতে পারবে? কোনো ধরনের বিশ্লেষণ ছাড়াই বলা যায়, বড় ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক দল বিএনপি’র লেজুড় বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি এবং গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো ধরনের সহায়তা দুরের কথা, শাসকশ্রেণির কথিত নতুন কোনো বন্দোবস্তও হবে না। মেনন-দিলীপ বড়–য়াদের মতো পরিণতির দিকেই তারা এগোচ্ছে, যদিনা তারা সময় থাকতে সরে পড়ে। বড় ধনীদের বিপরীতে ‘বামপন্থি’দের পৃথক ধারা সৃষ্টির দাবিদার ‘যুক্তফ্রন্ট’ কোনো ধারা সৃষ্টির পরিবর্তে জনগণকে সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদের দালাল মুৎসুদ্দি বুর্জোয়াদের নির্বাচনী মোহ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে মাত্র। 

স্বাভাবিক প্রশ্ন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে এই বামদের জনগণের কাছে যাওয়ার কি কোনো উপায় ছিল না?  সাম্রাজ্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ, দালাল শাসকশ্রেণির সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যবস্থাই এমন যাতে শুধুমাত্র সাম্রাজ্যবাদের দালাল, ভারতের চামচা সামরিক-বেসামরিক অবসর প্রাপ্ত আমলা, বড় ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, এনজিও কর্মকর্তা, সুশীল, আইনজীবী, অধ্যাপক তথা বড় ধনী শ্রেণির রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারাই নির্বাচিত হতে পারবে। তাই এই নির্বাচনি ব্যবস্থায় কীভাবে শাসকশ্রেণি তাদের কর্মসূচি চালাচ্ছে, তার বিপরীতে জনগণের স্বার্থের কী কর্মসূচি হতে পারে, নির্বাচনি পদ্ধতিতে কী কী ধরনের গলদ রয়েছে তা উল্লেখ করে প্রকৃত গণতান্ত্রিক নির্বাচনি ব্যবস্থা তুলে ধরা যেতো। শ্রমিক-কৃষক-নিপীড়িত জনগণ যাতে নির্বাচিত হতে পারেন এমন গণতান্ত্রিক রূপরেখা তুলে ধরে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য জনগণের কাছে যাওয়া যায়। কিন্তু তারা বিপ্লবী সংগ্রামের পথে না গিয়ে বুর্জোয়া নির্বাচনের কানাগলি পথে জনগণকে আটকে রাখছে। বাস্তবে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগ্রাম করতে পারে মালেমা তত্ত্বে সজ্জিত কমিউনিস্ট পার্টি। 

নির্বাচনপন্থি বামেরা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার কথা মুখে বললেও তা বাস্তবায়ন তাদের পক্ষে সম্ভব নয়, তাদের মৌলিক রাজনৈতিক-মতাদশগত লাইনের কারণে। আবার এটাও সত্য এই সব বাম সংগঠনে যুক্ত অনেক কর্মী-জনগণ আন্তরিকভাবে সমাজতন্ত্র চান এরা বাম বা সমাজতন্ত্রের সমর্থক কিন্তু কমিউনিস্ট নয়। অন্যভাবে বলা যায়, কমিউনিস্টরা বামপন্থি, কিন্তু সব বামপন্থিই কমিউনিস্ট নয়, বিপ্লবী নয়। নির্বাচনের রাজনীতিতেও তার প্রতিফলন ঘটে। জনগণের মধ্যে এই প্রশ্নে বিভ্রান্তি রয়েছে। সত্যিকার মালেমাবাদী কমিউনিস্টদের এই বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে অব্যাহত সংগ্রাম করে মালেমার বিপ্লবী রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র